.

আলোচনায় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজে'লার আ’লীগ সভাপতি

সিলেট টাইমস ডেস্কঃ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজে'লা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিব মনিয়া। ষোল বছর ধরে এ পদ সামলাচ্ছেন তিনি। এতদিন বিষয়টি নিয়ে কারও টু শব্দটি শোনা না গেলেও সম্প্রতি আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের তালিকা তৈরি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা চলছে তাকে নিয়ে। উপজে'লার আলবদর সদস্য আব্দুল খালিকের ছে'লে আব্দুল হাসিব মনিয়াও ওই সংগঠনের সদস্য ছিলেন বলে দাবি অনেকের। এমনকি মুক্তিযু'দ্ধের সময় জামাল উদ্দিন নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী রাজাকার-আলবদরের হাতে হ'ত্যাকা'ণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনায় মনিয়াও জড়িত বলে অ'ভিযোগ শোনা যায়। যদিও মনিয়ার দাবি, কিছু বইয়ে তাকে মুক্তিযু'দ্ধের সংগঠক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভিন্ন বই ও নথি ঘেঁটে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহান মুক্তিযু'দ্ধের সময় উপজে'লার খাসা দিঘিরপাড় এলাকার আব্দুল খালিক ছিলেন আলবদর সদস্য। আর তারই ছে'লে আব্দুল হাসিব মনিয়াও ছিলেন আলবদর। যু'দ্ধের সময় মনিয়ার বয়স ২০-২২ বছর। তিনি পাকিস্তানিদের রসদ যোগাতেন। মুক্তিযু'দ্ধ চলাকালে রাজাকার-আলবদরদের হাতে খু'ন হন জামাল উদ্দিন নামের এক আওয়ামী লীগ কর্মী। ওই হ'ত্যাকা'ণ্ডে জড়িতদের মধ্যে মনিয়াও ছিলেন বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জে'লা ইউনিট কমান্ড প্রকাশিত ‘রণাঙ্গনে ৭১’ বইটিতে বিয়ানীবাজার উপজে'লার রাজাকারের তালিকায় ২৩৩ নম্বরে আছে আব্দুল হাসিব মনিয়ার নাম। তার আগে তালিকার ২২৩ নম্বরে আছে তার বাবা আব্দুল খালিকের নাম। মুক্তিযোদ্ধা জে'লা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল সম্পাদিত ‘রণাঙ্গনে ৭১’ বইটিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, আব্দুল হাসিব মনিয়া ১৯৭১ সালের ১৭ জুলাই স্থানীয় স্বাধীন সুন্দরীর পিতা জামাল হ'ত্যাকা'ণ্ডের অন্যতম সদস্য।

এলাকায় শোনা যায়, স্বাধীনতাযু'দ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাপ্টেন মণ্ডুলের জন্য খাবারের টিফিন বহন করে নিয়ে যেতেন মনিয়া। এজন্য এলাকায় তাকে ‘টিফিন কিয়ারী রাজাকার’ বলেও ব্যঙ্গ করেন স্থানীয়রা। কিন্তু এই অ'ভিযোগ-জনশ্রুতি ছাপিয়েই ২০০৪ সালে বিয়ানীবাজার উপজে'লা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন মনিয়া। এরপর দীর্ঘ ষোল বছর উপজে'লা আওয়ামী লীগের চালকের আসনে রয়েছেন তিনি। দলীয় সূত্র বলছে, আগামী ১৪ নভেম্বর বিয়ানীবাজার উপজে'লা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। মনিয়া এবারের কাউন্সিলেও সভাপতি হতে চান। তার বিপরীতে সভাপতি পদে প্রার্থী উপজে'লা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বিয়ানীবাজার উপজে'লা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

মনিয়ার বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা জে'লা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল বাংলানিউজকে বলেন, একজন রাজাকার ১৬ বছর ধরে স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে, এটা দুঃখজনক। আব্দুল হাসিব রাজাকার, তার বাপও রাজাকার ছিলেন। তিনি ক্যাপ্টেন মণ্ডুলের জন্য দুপুরে টিফিন নিয়ে যেতেন, এজন্য তাকে এলাকায় টিফিন কিয়ারী রাজাকারও বলা হয়। সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, ’৭১ সালে তার বাড়ির সামনে জামাল উদ্দিনকে গাছে বেঁধে হ'ত্যা করা হয়। এছাড়া উপজে'লা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া মকসুদুল ইস'লাম আউয়ালের বাবা উপজে'লার মুড়িয়া চান্দগ্রামের কুটুচান্দ মেম্বারও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।

এ বিষয়ে সিলেট জে'লা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, দলে কোনো অনুপ্রবেশকারী, জামায়াত-বিএনপি ও রাজাকার সন্তানের ঠাঁই হবে না। এই বিষয়টি মা'থায় রেখে কাজ করছি।

আব্দুল হাসিব মনিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য রয়েছে। তারপরও বিতর্কিত কাউকে সংগঠনে না রাখার বিষয়ে অনড় হাইকমান্ড। এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে বিয়ানীবাজার উপজে'লা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হাসিব মনিয়া বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছি। লোকজন চায় আমি প্রার্থী হই। কেননা ১৯৬৬ সাল থেকে আমি আওয়ামী লীগে আছি। ছয় দফা আ'ন্দোলনের পর থেকে রাজনীতিতে সক্রিয়। ঊনসত্তর-সত্তরের নির্বাচনে আমি নৌকার পক্ষে কাজ করেছি। তখন মোটরসাইকেল নিয়ে ভারতে যাই। সেখান থেকে মুক্তিযু'দ্ধের সময় এসে পাঞ্জাবীদের হাতে ধ'রা খেয়ে সম্পত্তি খুইয়ে পাঁচ মাস গোলাপগঞ্জের শ্বশুর বাড়িতে ছিলাম। সেখানে থাকাকালে জামাল হ'ত্যার ঘটনা ঘটে। জামাল আমা'রই কর্মী ছিলেন।

আব্দুল হাসিব মনিয়া আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণে মুক্তিবাহিনীকে অভ্যর্থনা জানাই। এরপর সেখান থেকে বাড়িতে ফিরি। দেশ স্বাধীনের পর সিলেট ও বিয়ানীবাজারে ১০-১২টি বই ছাপা হয়। সেসব বইয়ে আমাকে মুক্তিযু'দ্ধের সংগঠক হিসেবে দেখানো হয়।

মনিয়া আরও বলেন, বিগত পৌরসভা নির্বাচনের পর সুব্রত চক্রবর্তীকে ম্যানেজ করে বইয়ে (রাজাকার হিসেবে) আমা'র নাম দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বই বাতিল এবং দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মা'মলা করেছি। ওই মা'মলার ডিক্রি পেলে মানহানি মা'মলা করবো।

বইতে নাম আসার পর উপজে'লা আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে তাকে ‘যু'দ্ধাপরাধে জড়িত নয়’ বলেও প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয় জানিয়ে মনিয়া বলেন, নির্বাচন এলেই আমা'র বি'রুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়।

তথ্য সূএ: শ্যামল সিলেট

Back to top button