.

বুয়েটের গোমড় ফাঁ'স করলেন প্রাক্তন ছাত্র আবুল হায়াত

সিলেট টাইমস ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলে ঘটেছে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হ’ত্যাকা'ণ্ডের ঘটনা। সেই হলেই থাকতেন জনপ্রিয় বর্ষীয়ান অ'ভিনেতা আবুল হায়াত। তিনি বুয়েটের একজন প্রাক্তন ছাত্র। আবরারের হ’ত্যাকা'ণ্ড তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অকপটে বলেছেন এই বুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি কিভাবে দেখেছেন…আম'রা বলতাম ‘বুয়েট ইজ অ্যান আইল্যান্ড’। সমস্ত জগৎ থেকে বিচ্ছন্ন একটি দ্বীপ। যার ভিতরে সবকিছু হচ্ছে। পড়াশুনা হচ্ছে, খেলাধুলা হচ্ছে, সংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে, নিজেদের মধ্যে হাসিঠাট্টা সবই হচ্ছে।

কিন্তু সেখানে কোন মা'রামা'রি নেই, ঝগড়াঝাটি নেই। আম'রা কি আ'ন্দোলন করিনি? অবশ্যই করেছি। আম'রা চুপচাপ ভিসির বাড়িতে গেছি পরীক্ষা পেছাতে হবে। ভিসি এসে আমাদের সামনে হাসছেন। আম'রা আ'ন্দোলনের পর চি'ৎকার করছি। কিন্তু তিনি হাসছেন। কারণ তিনি আমাদের সন্তানের মতো মনে করতেন। আর আজকের ভিসি! আমি তো চিন্তাই করতে পারি না। আমা'র সন্তান মা'রা গেল সেই খবর পেয়ে সেখানে আমি যাবো না!

ভিসির সন্তান নয় ছাত্ররা? এর চেয়ে অ'বাক করা বিষয়তো আর হতে পারে না। আপনারা বিশ্বা'স করুন আমা'র স্ত্রী' অ'সুস্থ হয়ে গেছে। তিনি অলমোস্ট বিছানায় পড়ে আছে। তার কথা, এই সন্তানটি তো আমা'রও হতে পারতো। আমি তাকে বুঝাতে পারছি না এটা একটা ঘটনা। সে বলছে না এটা কিভাবে সম্ভব? এই ছে'লেগুলোর সঙ্গে তুমি সেদিন অনুষ্ঠান করে আসলে না? হ্যা আমি দু:খিত এই ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ বছর পূর্তির পুনর্মিলনী করেছি।আরো দুর্ভাগ্য আমা'র এই ছে'লেগুলোকে আমি চিনি। এদের সঙ্গে আমা'র বহুবার কথা হয়েছে।গত বছর যখন হল ফেস্ট হলো তখন এরা আমাকে ফোন করেছে।

ওরা অনুরোধ করে বলেছে, হায়াত ভাই আম'রা হলফেস্ট করছি। আম'রা পুরনো ছাত্রদের চাই। আপনি আসবেন। আমি বলেছি, আসবো। অবশ্যই আসবো। কারণ আমি হলকে ভালোবাসি। এই হল আমা'র প্রানের বন্ধন। এই হলের স্মৃ'তি আমি কখনো ভুলতে পারি না। এই ২৫ বছর পূর্তি আমি করেছি। অ্যালামনাই আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি গেলাম। তাদের সঙ্গে খেলাম, গল্প করলাম। তারা আর্থিক সাহায্য চাইলো। আমি আমা'র এক বন্ধুকে বললাম, তাদের সাহায্য কর। এরা তো আমাদেরই ভাই।

আম'রা আর্থিক সাহায্য করলাম। আম'রা হাসিমুখে গল্প করলাম।তার কিছুদিন পরে আম'রা ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান করলাম। তখন বুঝলাম যত সহ'জ ভাবছি তেমন সহ'জ না। কারণ এই অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আম'রা সিনিয়র হয়েও প্রতিপদে বাধার সম্মুখীন হলাম।প্রথম বাধাটি আসলো যখন আম'রা প্রভোস্ট'কে বললাম, আম'রা আমাদের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনে বর্তমান ছাত্র যারা আছে তাদের ইনক্লুড করতে চাই। আমি প্রথমেই হতবাক হয়ে গেলাম কোন ছাত্র পরিষদ নেই। ছাত্র পরিষদ নেই তাহলে ছাত্রদের দেখাশুনা কে করে?

বলে আছে কিছু ছে'লে যারা নিজেরা নিজেরাই ঠিক করে নিয়েছে। তারাই ব্যবস্থা করে। বললাম আপনি ওদিকে যান না? বলে না ওরা আমাকে দেখলে নানান রকম ইঙ্গিত কমেন্টে করে। ছাত্রদের সঙ্গে এই যে প্রভোস্টের বিরাট একটি দূরত্ব তৈরী হয়েছে। শুধু প্রভোস্ট কেন সম্পূর্ণ প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রদের একটি বিরাট দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সামনে অ্যালামনাই ফেডারেশনের অনুষ্ঠান করার জন্য ভিসির সঙ্গে দেখা করার জন্য দেড় মাস অ'পেক্ষা করেছি। একটা চিঠি নিয়ে দেড়মাস অ'পেক্ষা করেছি তার অনুমতির জন্য। তিনি অনুষ্ঠানে বিশেষ অ'তিথি হবেন বলে রাজি হয়েও আসেননি। এখন একজন ভিসিকে আম'রা কি বলতে পারি? তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান। যেখানে আম'রা পড়াশুনা করেছি।

আমা'র চোখের মধ্যে আছে ড. রশীদ, ড. নাসির, সালেহ আহমেদ সাহেবের মতো ব্যক্তিত্ব আমা'র চোখের সামনে রয়েছে। সেখানে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যেখানে কোন ছে'লে নি’র্যাতিত হলে প্রফেসররা কিছু বলতে সাহস পান না। কারণ তার প্রশাসনিক সমস্যা হতে পারে। তাই বলে তো একটা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা আপনি করতে পারেন না।আমি মনে করি প্রশাসনকে হারপিক দিয়ে পরিস্কার করার সময় এসেছে। বুয়েটের প্রশাসনের এই অবস্থা হলে দেশের সেরা মেধাবীর আর এখানে ভর্তি হবে না।

Back to top button