.

স্ত্রী'কে ৩০ লাখ টাকার গাড়ি দিলেন ওসমানীর সাদেক!

সিলেট টাইমস ডেস্কঃ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নানা কারণে বিতর্কিত নাম ব্রাদার সাদেক। নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ বাণিজ্য, বড় বড় প্রকল্পে দু'র্নীতির ক্ষেত্র তৈরির গুরু হিসেবেই সকলে তাকে চিনেন। খুব অল্প দিনে তিনি হয়েছেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। এমনকি তার বি'রুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অ'ভিযোগ থাকলেও স্ত্রী'কে দিয়েছেন বিলাসবহুল জীবন। সেই সাথে স্ত্রী'কে ভালবাসার উপহারস্বরূপ দিয়েছেন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা দামের একটি প্রাইভেট কার।

বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বি.এন.এ) সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার সাধারণ সম্পাদক ইস'রাইল আলী সাদেক পেশায় একজন স্টাফ নার্স বা ব্রাদার হলেও তার বিলাসবহুল জীবন। অন্য নার্স যেখানে সারা মাস চাকরি করে পরিবারের খরচ চালাতেই হিমশিম খান সাদেক সেখানে নিজের স্ত্রী'কে দেন দামি গাড়ি। এ যেন সাদেকের হাতে আলাদীনের চেরাগ! অবশ্য ক্ষেত্র বিশেষে সুদর্শন নার্সরাও পান দামি উপহার; এমন তথ্য দিলেন সাদেকের এক ঘনিষ্ঠজন।

জানা যায় ঢাকা মেট্রো-গ- ২৬-২২৮২ নং এ গাড়ির মালিক সাদেকের স্ত্রী' সেলিনা আক্তার। ২০১৬ মডেলের ‘প্রিমিও ব্র্যান্ডের’ কালো রঙের অ'ভিজাত এ গাড়িটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। ২য় শ্রেণির পদদারি হিসেবে ইস'রাইল আলী সাদেকের মাসিক বেতন প্রায় ৩৫ হাজার টাকার মতো। এ হিসেবে তার বাৎসরিক উপার্জন প্রায় ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। তার মানে খাওয়া-দাওয়া ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ বাদ দিলেও স্ত্রী'র গাড়ি কেনা বাবদ ৩০ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে সাত বছরের অধিক সময় লাগার কথা।

স্ত্রী'কে এ গাড়ি উপহার দিয়েই শেষ নয়, নিজেও চড়েন অন্য একটি প্রাইভেট কার। আছে বিশাল বিত্ত-বৈভব। তবে তার উপহার দেয়ার এ নিয়ম নাকি কেবল স্ত্রী'কেই নয়। প্রভাবশালী অনেক নেতাকর্মী ও পছন্দের মানুষরাও অনেক সময় পান দামি দামি অনেক উপহার পান।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নার্স বলেন, ‘আমাদের সাদেক ভাইয়ের হাতে আলাদীনের চেরাগ। আমি নিজে চাকরি করি, আমা'র স্বামীও ভালো বেতনে চাকরি করেন। তবুও সংসারের খরচ চালাতেই হিমসিম খেতে হয়। কিন্তু আমাদের সাদেক ভাই বেশ ভালই আছেন।’

তবে সাদেকের টাকা উপার্জনের মাধ্যম কেবল চাকরি নয়। তার টাকা উপার্জনের অনেকগুলো ব্যবসার মধ্যে হাড় অ'পারেশনের নাট বল্টুর ব্যবসাটা বেশ জনপ্রিয়। এ ব্যবসায় তিনি একাই আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন। কেবল তাই না, অ'বাক করা ব্যাপার ধাতু দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরণের পাত, তার, স্ক্রু, বল ইত্যাদি একবার বিক্রি করার পর রোগী সুস্থ হয়ে ওঠার পর অ'পারেশনের মাধ্যমে এগুলো বের করা হলেও সেগুলোকেও তিনি অ'পচয় হতে দেন না। আবার সেগুলো তিনি ধুয়ে, মুছে পরিষ্কার করেই বিক্রি করে দেন। আর এভাবে একই জিনিষ অন্তত ২/৩ বার তিনি বিক্রি করতে পারেন। সর্বোচ্চ ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দামের এসব যন্ত্র তিনি প্রতিবারই বিক্রি করেন ১২ হাজার টাকার উপরে।

কেবল তাই না, স্থানীয় সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে হাসপাতালে প্রায় একাধিপত্য বিস্তার করেছেন সাদেক। বলতে গেলে হাসপাতালের পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সবই এখন তার আওয়তায়। কিন্তু অ'বাক করা ব্যাপার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইস'লামের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল যু'দ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁ'সি কার্যকর হওয়া আব্দুল কাদের মোল্লা’র মৃ'ত্যুদ'ণ্ডের রায় ঘোষণার পর রায়ের বি'রুদ্ধে সিলেট জামায়াতে ইস'লামির মিছিলকালে পু'লিশের সাথে সং'ঘর্ষে সিলেট মহানগর জামায়াতে ইস'লামির আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আ'হত হলে সাদেকই তার নিজস্ব এম্বুলেন্সে করে সম্পুর্ণ বিনা খরচে ঢাকা ইবনেসিনা হাসপাতালে পাঠান। বিএনপি-জামায়াতের সময়ে সাদেক ছাত্রদল ক্যাডার কালা নাহিদের অনুসারী হলেও এখন তিনি সময়ের প্রয়োজনে খোলস পাল্টে ‘আওয়ামী লীগ অনুসারী’। অবশ্য ছাত্রদলের সাবেক ক্যাডার কালা নাহিদও এখন প্রয়াত।

এসব অ'ভিযোগের ব্যাপারে সাদেকের সাথে যোগাযোগ করতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে দিনভর চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।এদিকে সাদেকের ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তার সকল সম্পদের একটি সঠিক হিসেব আদায় করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী। তিনি সিলেট ভ'য়েসকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সময়ে যে শুদ্ধি অ'ভিযান চালাচ্ছেন তা প্রশংসার দাবিদার। একজন ব্রাদার হয়েও উনার বিলাসবহুল জীবনের তথ্য দেখে অ'বাক হই। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ, সারা দেশে যে শুদ্ধি অ'ভিযান চলছে তার অংশ হোক আমাদের এ হাসপাতালটিতে। অসহায় মানুষের ভরসাস্থল এ হাসপাতালের দিকে দৃষ্টি দিলে সিলেটের সাধারণ মানুষ আনন্দিত হবে।’

এদিকে র‍্যাব-৯ এর পরিচালক (গণমাধ্যম) ও অ'তিরিক্ত পু'লিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান সিলেট ভ'য়েসকে বলেন, সাদেক নামের একজনকে র‍্যাব প্যাথিড্রিনসহ গ্রে'প্তার করেছিলো। তিনি আ'দালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে আম'রা সুনির্দিষ্ট অ'ভিযোগ পেলে ত'দন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো’।অ'পরদিকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘আমি দেখেছি সে একটা গাড়ি নিয়ে মাঝেমধ্যে আসে। তবে কত টাকা দিয়ে কিনেছে, কি ভাবে কিনেছে তা আমা'র জানা নেই। তাছাড়া কারো ব্যক্তিগত সম্পদের হিসেবও আমা'র জানা থাকার কথা না।’ তবে হাসপাতালের অনেক স্টাফই প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করেন বলে জানান তিনি।

সূত্রঃসিলেট ভ'য়েস

Back to top button