.

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল যেনো কুকুর-বিড়াল-ছাগলের আস্তানা

সিলেট টাইমস ডেস্কঃ হবিগঞ্জ জে'লা সদর আধুনিক হাসপাতাল এখন কুকুর-বিড়াল ও ছাগলের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। রোগীদের বদলে এখন বিছানায় ঘুমায় এসব প্রা'ণী। আবার বিভিন্ন সময় বিড়াল নবজাতকসহ রোগীদের উপর আক্রমণ করে বলেও অ'ভিযোগ রয়েছে।হাসপাতালে আসা রোগীদের অ'ভিযোগ- প্রতিদিন বেশ কয়েকটি কুকুর-বিড়াল ও ছাগল বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে বেড়ায়। রোগীদের বিছানায় রাতে একসাথে ঘুমায় বিড়াল। অনেক সময় এসব বিড়াল রোগীদের উপর আক্রমণও করে। খাবারে মুখ দিয়ে নষ্ট করে দেয়।

শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি ছাগল ছানাও এসব কুকুর-বিড়ালের সাথে প্রতিনিয়ন বিচরণ করে হাসপাতালের ভেতরে। এসময় প্রা'ণী হাসপাতালের ভেতরেই প্রস্রাব-পায়খানাও করে থাকে। অনেক সময় রোগীদের বিছানায়ও তারা প্রস্রাব-পায়খানা করে বলে অ'ভিযোগ করেছেন অনেকে।সরেজমিনে দেখা যায়, ২৫০ শয্যা হবিগঞ্জ জে'লা সদর আধুনিক হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনের ভেতরেই এসব কুকুর-বিড়াল ও ছাগলের বেশি উৎপাত রয়েছে। সেখানে এসব প্রা'ণী নিশ্চিন্তে বিচরণ করছেন। বেশ কয়েকটি বিড়াল ছানা ওষুধ রাখার আলমা'রিতে ঘুমিয়ে আছে। শুধু নতুন ভবনেই নয়, পুরাতন ভবনের শি'শু ও গাইনী ওয়ার্ডের ভেতরেও রয়েছে এসব বিড়ালের অবাদ বিচরণ।

ওই ওয়ার্ডের রোগীদের অ'ভিযোগ- বিড়ালের আতঙ্কে নবজাতক রেখে রোগীর স্বজনরা ঘুমাতে পারেন না। বিভিন্ন সময় নবজাতকের পাশে রাতে বিড়াল ঘুমিয়ে পরে। আর এসব বিড়ালের উপর রাতের অন্ধকারে হাত-পা লাগলে আক্রমণ করে।বিড়াল ও কুকুরের মুখের লালা দিয়ে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়াচ্ছে বলে স'ন্দেহ করছেন রোগী বা তার স্বজনরা। তাদের আশ'ঙ্কা এসব কুকুর-বিড়াল ও ছাগলের কারণে জলাতঙ্কসহ নানা রোগ হতে পারে বলেও আশ'ঙ্কা তাদের।হবিগঞ্জ সদর উপজে'লার পইল গ্রামের আয়েশা আক্তার জানান, হাসপাতালের ভেতরে রাতে ঘুমানো যায় না। বিড়ালগুলো এসে বিছানার উপরে উঠে যায়। বিড়ালের উপর হাত-পা লাগলে এগুলো আওছড়া মা'রে (আক্রমণ করে)।

লাখাই উপজে'লার তেঘরিয়া গ্রামের নীল বানু বলেন, আমা'র ছে'লেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে খাবার খাওয়া যায় না। বিড়াল আর ছাগল এসে খাবার খেয়ে নেয়।এ ব্যাপারে জে'লা ছাত্রলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক নূরুজ্জামান জাকি বলেন, ‘আমা'র খালাতো ভাইকে নিয়ে সদর হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখলাম হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতরে কুকুর-বিড়াল-ছাগল ঘুরে বেড়াচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘সদর হাসপাতালের ভেতরে কুকুর বিড়ালে ঘুরাঘুরি করলে এদের তাড়িয়ে দেওয়ার মতো কেউ সেখানে নেই। এ সমব প্রা'ণী প্রতিনিয়ত হাসপাতালের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া ছড়ালেও কর্তৃপক্ষ উদাসীন।’

এ ব্যাপারে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নজরুল ইস'লাম বলেন, ‘এসব আমি জানি না, কাল হাসপাতালে এসে দেখি কি অবস্থা।’হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রথীন্দ্র চন্দ্র দেব বলেন, ‘হাসপাতালে বিড়াল থাকতে পারে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু কুকুর ও ছাগল থাকার কথা না। কি করে এসব প্রা'ণী হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করছে তা আমি দেখব। স্টাফ থাকার পরেও কেন এমন হবে তা যাচাই করা হবে।অ'ভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নজরুল ইস'লাম হাসপাতালের দায়িত্ব পালনে উদাসীন। তিনি হাসপাতালে আসলে ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। আড্ডা-গল্পে দিন পার করেই তিনি চলে যান।

সূত্রঃসিলেট প্রতিদিন

Back to top button