.

স্কুলের একমাত্র ছাত্রের জন্য আজও অবসরে যাননি শিক্ষিকা!

সিলেট টাইমস ডেস্কঃ রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের মৃ'তপ্রায় একটি গ্রাম সিবিলিয়াকোভো। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত অর্থনীতি ধসে পড়লে বন্ধ হয়ে যায় এ গ্রামের সরকার পরিচালিত সমবায় খামা'রটি। সে সময় রাশিয়া জুড়ে হাজার হাজার গ্রামের মতো জনশূন্য হয়ে পড়তে থাকে সংখ্যালঘু তাতার জাতিগোষ্ঠীর এ গ্রামটিও।রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৭০ সালের দিকে সিবিলিয়াকোভোর জনসংখ্যা ছিল ৫৫০ জন। এখন তা কমতে কমতে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৯ জনে। সে সময় গ্রামের প্রাই'মা'রি স্কুলটি ছাত্রছা'ত্রীতে পরিপূর্ণ থাকলেও এখন এ স্কুলের একমাত্র ছাত্র ৯ বছর বয়সী রাভিল ইজমুখামেতভ।

৪২ বছর ধরে এ স্কুলেই শিক্ষকতা করছেন উমিনুর কুচকোভা। বর্তমানে তার বয়স ৬১। অনেক আগেই অবসর নিয়ে শহরে স্বামীর সঙ্গে বসবাসের কথা থাকলেও, একমাত্র ছাত্র ইজমুখামেতভের কথা ভেবে এখনও গ্রামেই পড়ে রয়েছেন তিনি। ইজমুখামেতভ এ স্কুলের পাঠ চুকিয়ে আরও পড়াশোনার উদ্দেশ্যে দূরের স্কুলে যাওয়া শুরু করলে তবেই তার ছুটি মিলবে। আর এর জন্য তাকে অ'পেক্ষা করতে হবে আরও কিছুকাল।

এ বয়সেও কেবলমাত্র একজন ছাত্রের জন্য গ্রামে থেকে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে এ শিক্ষিকা জানান, ইজমুখামেতভের জন্যে বেশ খা'রাপ লাগে তার। ছে'লের পড়াশোনার জন্য এখনই গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চান না ওর বাবা-মা। অন্যদিকে গ্রাম থেকে একা একা ওর মতো ছোট্ট ছে'লের জন্য ইরতিশ নদীর বড় বড় ঢেউ পাড়ি দিয়ে দূরের স্কুলে যাওয়াও সহ'জ নয়। এসব ভেবেই তাকে থেকে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে আর বেশিদিন নেই, বন্ধ হয়ে যাবে এ স্কুল। এখানকার পাঠ চুকিয়ে অন্য স্কুলে পাড়ি দেবে ছোট্টো ইজমুখামেতভ। চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে এ স্কুল। সেই সঙ্গে বিদায় নেবেন শিক্ষিকা উমিনুর কুচকোভা। সুদীর্ঘ কর্মজীবনের কথা ভেবে মন খা'রাপ হয় তার।

বন্ধুবান্ধবহীন একা স্কুলে যেতে কেমন লাগে জানতে চাইলে বেশ অ'বাক হয় ইজমুখামেতভ। বলে, অ'ভিজ্ঞতা না থাকায় তুলনা করে বলতে পারবো না, তবে অন্য স্কুলে গেলে আমি অবশ্যই চাইবো আমা'র বন্ধু থাকুকইজমুখামেতভের বাবা-মা কৃষিকাজ ও পশুপালন করেন। তারা চান একদিন তাদের ছে'লে বড় হয়ে শহরের স্কুলে পড়ুক। এ অঞ্চলের বাচ্চাদের শহরের স্কুলে পড়ার সুযোগ পেতে জন্মের পর থেকে অ'পেক্ষা করে থাকতে হয় দীর্ঘদিন।

Back to top button