লকডাউনে পাওয়া গেল না অ্যাম্বুলেন্স, পু'লিশের গাড়িতেই সন্তান প্রসব(ভিডিও)

সিলেট টাইমস ডেস্কঃকরো'নার বিস্তার রোধে টানা ২১ দিনের লকডাউনে পুরো ভা'রত। এরফলে স্বাভাবিকভাবেই দেশটির জনগণের জীবনযাপনে  ব্যাপক প্রভাপ পড়তে শুরু করেছে। লকডাউনের কারণে অ্যাম্বুল্যান্সও পাওয়া যাচ্ছে না ঠিকমতো। এমনই এক সংকটে পড়ে পু'লিশভ্যানেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মা।বুধবার (২৫ মা'র্চ) সকাল থেকেই স্ত্রী' জ্যোতিদেবী প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিলেন। স্ত্রী'কে নিয়ে কী'ভাবে হাসপাতাল যাবেন, কিছুতেই ভেবে উঠতে পারছিলেন না সুরেন্দ্র গুপ্ত। কয়েকদিন ঘরে বসে থাকার কারণে হাতে টাকাপয়সা প্রায় নেই বললেই চলে। তার উপর করো'না আতঙ্কের মধ্যে কারো সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলেই চলে। ট্রেন বন্ধ, প্রাইভেট গাড়িতে করে স্ত্রী'কে হাসপাতা'লে নিয়ে যাওয়ার সাধ্য নেই। সকাল থেকে তিনি অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য পায়ে হেঁটে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। কিন্তু, কোন লাভ হয়নি। শেষমেশ সোনারপুর স্টেশনের কাছে গিয়ে এক প্রকার হতাশ হয়ে বড় রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন স্থানীয় সুকান্ত সরণির বাসিন্দা সুরেন্দ্র।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বন্ধ স্টেশন এলাকার ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন সোনারপুর থা'নার আইসি সঞ্জীব চক্রবর্তী। হতাশ এবং উদভ্রান্ত সুরেন্দ্রকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তিনি গাড়ি থামান। জানতে চান কী' হয়েছে? সুরেন্দ্র তখন তাকে ঘটনা খুলে বলেন।এর পর সঞ্জীব নিজের গাড়িতে তুলে নেন সুরেন্দ্রকে। চলে যান সুকান্ত সরণিতে সুরেন্দ্রর বাড়িতে। কাতরাতে থাকা সুরেন্দ্রর স্ত্রী'কে তার দুই প্রতিবেশীর সাহায্যে নিজের গাড়িতে তোলেন আইসি। রওনা দেন সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতা'লে উদ্দেশে। কিন্তু, মাঝপথে গাড়িতেই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন জ্যোতিদেবী।সঞ্জীব জানিয়েছেন, মা এবং সদ্যোজাত দু’জনেই হাসপাতা'লে ভর্তি, তবে সুস্থ আছেন।মে'য়ে হওয়ায় খুশি সুরেন্দ্র। প্রশংসা করলেন পু'লিশের।

তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে কোনও কাজ নেই। বাড়িতেই বসে। টাকাপয়সাও নেই। সকাল থেকে আমা'র স্ত্রী'র প্রসব যন্ত্র'ণা ওঠে। অ্যাম্বুল্যান্স পাইনি। তাই রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখনওই দেবদূতের মতো হাজির হয়েছিলেন ওই অফিসার। উনাকে অনেক ধন্যবাদ। উনি না থাকলে আজ যে কী' হত! চির দিন তার প্রতি কৃত়জ্ঞ থাকবো।সঞ্জীব বলছেন, পু'লিশও তো মানুষ। ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছিলাম, পেশায় তিনি হকার। ডান হাতটা নেই। শিয়ালদহ স্টেশনে চানাচুর বিক্রির কাজ করেন। গত কয়েকদিন ধরে ট্রেন বন্ধ। তাই কাজও বন্ধ। কাছে টাকা নেই। অথচ স্ত্রী'র প্রসব বেদনা উঠেছে। হাসপাতা'লে নিয়ে যেতে হবে। কথাগুলো শুনেই গিয়েছিলাম তার বাড়ি।পাশাপাশি সোনারপুর হাসপাতা'লেও তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রেখেছিলেন সঞ্জীব। তিনি বলেন, হাসপাতা'লে ডাক্তাররা তৈরিই ছিলেন। কিন্তু আমা'র গাড়িতেই প্রসব হয়ে যায়। ওই অবস্থাতেই জ্যোতিদেবীকে হাসপাতা'লে ভর্তি করা হয়। দু’জনেই ভাল আছেন।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন…

Back to top button
.